পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, তা হল— আগের সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কী হবে? যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী কিংবা যুবসাথীর মতো প্রকল্পগুলি কি এবার বন্ধ হয়ে যাবে? নাকি নতুন সরকার সেগুলি চালু রাখবে?
সূত্রের মারফত খবর অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরই প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন নতুন মূখ্যমন্ত্রী মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকগন।
এই বৈঠকের মূল বিষয় ছিল— রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ যেন স্বাভাবিক করা যায় এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবায় যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
বিশেষ করে বর্তমানে যেসব প্রকল্পের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ নানা সুবিধা পাচ্ছেন, সেগুলি হঠাৎ করে বন্ধ না করার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
অবশেষে সেই জল্পনার মাঝেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের চলমান প্রকল্পগুলি যেন কোনওভাবেই থমকে না যায় এবং সাধারণ মানুষ যাতে পরিষেবা পেতে সমস্যায় না পড়েন।এই খবর সামনে আসতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই বৈঠকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। তা হল কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত পশ্চিমবঙ্গে চালু করা দরকার।
যদিও বিজেপির দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, আগের সরকার অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হতে দেয়নি বলে অভিযোগ ছিল। এবার নতুন সরকার সেই প্রকল্পগুলিকে দ্রুত চালু করতে চাইছে।
বিশেষ করে কেন্দ্র সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে মমতার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে। কারণ রাজ্যের বহু পরিবার এখনও এই প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে বসে আছেন।
অনেকের প্রশ্ন, আয়ুষ্মান ভারত চালু হলে স্বাস্থ্যসাথীর ভবিষ্যৎ কী হবে?
সূত্রের দাবি, এই বিষয় নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে একেবারে হঠাৎ করে স্বাস্থ্যসাথী বন্ধ করার সম্ভাবনা কম বলেই অনুমান করা হচ্ছে।
এও অনুমান করা হচ্ছে, আয়ুষ্মান ভারত পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু আগের মতোই থাকতে পারে। যাতে সাধারণ মানুষ চিকিৎসা পরিষেবায় সমস্যার মুখে না পড়তে হয়।
গ্রামের মহিলা থেকে শহরের গৃহবধূ — লক্ষ লক্ষ মানুষ বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে আসছেন। তাই এই প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহও সবচেয়ে বেশি।
নতুন সরকারের প্রথম বৈঠকের পর অনেকেরই ধারণা যে, সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজসাথী, যুবসাথীর মতো প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হলে সমাজে প্রভাব আলাদা হবে। সেই কারণেই সরকার আপাতত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল মানুষের আস্থাকে ধরে রাখা। কারণ বাংলার বিপুল সংখ্যক পরিবার বর্তমানে সরকারি প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল হয়ে জীবন যাপন করছেন।
এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ কোনও বড় পরিবর্তন করলে সাধারন মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই প্রথম বৈঠক থেকেই ‘চলমান প্রকল্প বন্ধ না করার’ বার্তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞমহল।
দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার। পেট্রোল-ডিজেলের লাগামছাড়া দামের মধ্যে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন ইলেকট্রিক ভেহিকেলের…
রাজ্যজুড়ে ক্রমশ বেড়েই চলেছে তাপমাত্রা। সকাল থেকেই অসহ্য গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় নাজেহাল অবস্থা সাধারণ…
রাজ্যে নতুন সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক বড় বড় ঘোষণা সামনে আসছে। এবার…
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেকার যুবক যুবতীদের জন্য ফের দারুণ সুসংবাদ জানালো রাজ্যের নতুন গ্রাম উন্নয়ন…
Business idea : দিনে দিনে বেকারত্ব যেখানে বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয় পাশাপাশি প্রত্যেক জিনিসের…
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি চর্চার বিষয় নতুন সরকার গঠন এবং তার পরবর্তী নানা…
This website uses cookies.