সরকারি কর্মীদের আরও এক সুবিধা নবান্নের, ১ অক্টোবর থেকে চালু নতুন নিয়ম! কারা পাবেন এই সুবিধা?

By Bongosathi News Desk

Published on:

এবার পুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর এসেছে। West Bengal Health Scheme বা WBHS-এর আওতার বাইরে চলে যাওয়া নির্দিষ্ট সন্তানদের জন্য এবার নতুন একটি নতুন সুবিধা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

রাজ্য অর্থ দফতরের মেডিক্যাল সেল থেকে জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এই সন্তানরা WBHS-এর তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্য স্কিমের রেটে চিকিৎসা করানোর সুবিধা পেতে পারেনতবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া উচিত, এই সুবিধায় চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে না। চিকিৎসার পুরো খরচ সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীকেই জমা করতে হবে।

কবে থেকে চালু হচ্ছে নতুন সুবিধা?

রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থা ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা নির্দেশের মাধ্যমে WBHS-এর আওতায় এই নতুন ক্যাটাগরি যুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে WBHS-এর আওতা থেকে আগে বাদ পড়ে যাওয়া নির্দিষ্ট সন্তানদের জন্য “Non-Pecuniary Beneficiary” নামে একটি নতুন ক্যাটাগরি আনা হয়েছে।

অর্থাৎ তাঁরা স্বাস্থ্য প্রকল্পের মূল আর্থিক সুবিধাভোগী না হলেও, নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে তালিকাভুক্ত হাসপাতালে স্কিমের নির্ধারিত রেটে চিকিৎসা করানোর মতো সুবিধা নিতে পারবেন।

কারা এই সুবিধা পাবেন?

পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য স্কিমের জারি করা নিয়ম অনুসারে সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীর সন্তানরা নির্দিষ্ট বয়স বা অন্যান্য শর্ত পর্যন্ত স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধার পেয়ে যাবেন। বিশেষ করে ছেলের ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়স পার হয়ে গেলে অথবা তিনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে গেলে সাধারণ নিয়মে WBHS-এর সুবিধা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে। অন্যদিকে মেয়ের ক্ষেত্রে বিয়ে হয়ে গেলে অথবা তিনি আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে হলে স্বাস্থ্য স্কিমের সুবিধা থেকে নাম বাদ পড়বে।

চিকিৎসা মিলবে কোথায়?

নতুন ক্যাটাগরির অধীনে সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিরা কেবল WBHS-এর তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা করাতে পারবেন। অবশ্যই হাসপাতালটি WBHS-এর অধীনে তালিকাভুক্ত থাকতে হবে। সাধারণ হাসপাতাল বা প্রকল্পের বাইরে থাকা কোনও হাসপাতালে এই নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়া যাবে না। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত WBHS রেট প্রযোজ্য হয়ে থাকবে।

এর ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সুবিধার আওতায় থাকা রোগীর কাছ থেকে নির্ধারিত রেটের বাইরে অতিরিক্ত বিল নিতে পারবে না বলে নির্দেশ দেওয়া আছে।

চিকিৎসার টাকা কে দেবেন?

এখানেই নতুন নিয়মটির সঙ্গে WBHS-এর সাধারণ সুবিধার কিছু পার্থক্য রয়েছে। Non-Pecuniary Beneficiary হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির চিকিৎসার খরচ সরকার কিন্তু বহন করবে না।

জানা যায়,চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ তাঁকেই বহন করতে হবে। তবে যে সুবিধা পাবেন সুবিধাটি তা হল, তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সরকারি স্বাস্থ্য স্কিমের রেট প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ হাসপাতালের সাধারণ বাণিজ্যিক রেটের পরিবর্তে WBHS-এর নির্ধারিত রেটে চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ মিলবে।

১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তাই যেসব সরকারি কর্মচারী বা পেনশনভোগীর সন্তান WBHS-এর নিয়মে আগে বাদ পড়ে গিয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।