আপনি কি সল্প পুঁজিতে এমন একটি ব্যবসা শুরু করতে চাইছেন, যেখানে সামাজিক সেবার পাশাপাশি নিয়মিত আয়েরও সুযোগ রয়েছে? তাহলে আজকের প্রতিবেদনে রয়েছে আপনার জন্য সুখবর। কেন্দ্র সরকারের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্প (PMBJP স্কিম-এর আওতায় জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই প্রকল্পের মুল লক্ষ্য দেশের প্রতিটি প্রান্তে কম দামে মানসম্মত জেনেরিক ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।

বর্তমানে দেশের অধিকাংশ জেলাতেই জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। তবুও নতুন কেন্দ্র খোলার জন্য আগ্রহী আবেদনকারীদের উৎসাহ দিতে সরকার নির্দিষ্ট শর্তে আর্থিক সাহায্যও দিচ্ছে। এর ফলে যাঁরা ওষুধের ব্যবসায় প্রবেশ করতে ইচ্ছুক, তাঁদের কাছে এটি একটি সম্ভাবনাময় সুযোগ হয়ে উঠতে চলেছে।

জানুন কী এই জন ঔষধি কেন্দ্র?

প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের জেনেরিক ওষুধ প্রদান করা। বিশেষ করে বাজারে যে ব্র্যান্ডেড ওষুধগুলি তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হয়, তার পরিবর্তে একই গুণমানের জেনেরিক ওষুধ অনেক কম দামে এই কেন্দ্রগুলি থেকে পাওয়া যায়।

যদি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার জন ঔষধি কেন্দ্র চালু রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিতে শুধু সাধারণ ওষুধই নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ক্যান্সারসহ একাধিক জটিল রোগের ওষুধও পাওয়া সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সার্জিক্যাল সামগ্রীও বিক্রি করা হয়।

আর্থিক সাহায্য কীভাবে পাওয়া যাবে?

অনেকেই মনে করেন সরকার জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য সরাসরি ২ লক্ষ টাকা হাতে দিয়ে থাকবে। বাস্তবে বিষয়টি কিছুটা আলাদা।

সরকারের নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত পূরণ করলে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ প্রদান করা হয়ে থাকবে। এই অর্থ দোকানের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি, যেমন কম্পিউটার, ফ্রিজ, ফার্নিচার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকবে।

এছাড়াও, জন ঔষধি কেন্দ্রে বিক্রি হওয়া ওষুধের উপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেড মার্জিন বা কমিশনের সুবিধাও মিলবে। এর ফলে ব্যবসা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে নিয়মিত আয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে থাকবে।

কেন্দ্র খুলতে কী কী শর্ত থাকতে হবে?

জন ঔষধি কেন্দ্র চালু করার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্ত থাকতে হবে।

  1.  কমপক্ষে ১২০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে।
  2. আবেদনকারীর নামে উপযুক্ত নথিপত্র থাকতে হবে।
  3.  একজন নিবন্ধিত ফার্মাসিস্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
  4. প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
  5.  সরকারের নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।

এই শর্তগুলি পূরণ করতে পারলেই আবেদন করার সুযোগ পেয়ে যাবেন।

কীভাবে আবেদন জানাতে হবে?

জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করতে হয়।

প্রথমে সরকারি জন ঔষধি পোর্টালে গিয়ে আবেদনকারীকে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে ফর্ম ফিলাপ শুরু করতে হবে। এরপর জরুরি তথ্য, ঠিকানা, রাজ্য নির্বাচন এবং প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করে আবেদনপত্র সমাপ্ত করতে হবে।

এর আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নথিপত্র যাচাই করবে। সমস্ত শর্ত পূরণ হলে পরবর্তী ধাপে অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আবেদন ফি কত লাগবে ?

জন ঔষধি কেন্দ্র খোলার জন্য সাধারণ আবেদনকারীদের কাছ থেকে ৫,০০০ টাকা আবেদন ফি নেওয়া হয়ে থাকে।

তবে মহিলা আবেদনকারী, তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি জনজাতি (ST), বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি (Divyang) এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই আবেদন ফি মকুব করা হয়ে থাকে। এর ফলে এই শ্রেণির আবেদনকারীরা কোনও আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করতে পারেন।

এখানে ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও

জন ঔষধি কেন্দ্র শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার একটি উদ্যোগ। কম দামে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় বহু মানুষ উপকৃত হয়ে থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে এই কেন্দ্রগুলির গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে।

যাঁরা বর্ডমানে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার কথা ভাবছেন এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত হতে ইচ্ছুক, তাঁদের কাছে জন ঔষধি কেন্দ্র একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশিকা, যোগ্যতার শর্ত এবং ইনসেনটিভ সংক্রান্ত নিয়মগুলি ভালোভাবে জপনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।