আবেদন করার ১/২/৩ মাস হলো? কিন্তু টাকা ঢোকেনি? এবার করে ফেলুন এই কাজ – WB Annapurna New Update

By Scheme Expert

Published on:

WB Annapurna New Update: আবেদন করেছেন অন্নপূর্ণায়? কিন্তু আবেদন করার ১ মাস বা ২ মাস বা তিন মাস হলো, এখনো পর্যন্ত টাকা আসেনি। তাহলে আপনার আবেদন ঠিক কোন পর্যায়ে থাকতে পারে? আপনি কি পরের কিস্তিতে টাকা পাবেন? আসুন এমন বহু প্রশ্নের উত্তর জেনেনিন-

এবার শুধু দিনের পর দিন অপেক্ষা না করে ধাপে ধাপে নিজের আবেদনের অবস্থা খোঁজ নেওয়া দরকার। বিশেষ করে আবেদন নম্বর, আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ হাতের কাছে রাখলে সমস্যা খুঁজে বের করা অনেক সহজ হয়।

এক নজরে জেনে নিন

বিষয়কী জানা দরকার
প্রকল্পঅন্নপূর্ণা যোজনা
সমস্যাটাকা অ্যাকাউন্টে না আসা
প্রথম করণীয়আবেদনের স্ট্যাটাস যাচাই
এরপরগ্রাম পঞ্চায়েত/পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ
ব্যাঙ্কে যা দেখবেনKYC, অ্যাকাউন্ট সক্রিয় আছে কি না, DBT/NPCI সংক্রান্ত অবস্থা
প্রয়োজনীয় কাগজআবেদন/রেজিস্ট্রেশন নম্বর, আধার, ব্যাঙ্কের তথ্য, আবেদন রসিদ
দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলেলিখিতভাবে অভিযোগ জানান

প্রথম মাসে টাকা না এলে কী করবেন?

আবেদন জমা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে টাকা অ্যাকাউন্টে চলে আসবে—এমনটা ধরে নেওয়া একদমে ঠিক নয়। আবেদন গ্রহণের পর বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

তাই প্রথম মাসে টাকা না এলেই আবেদন বাতিল হয়েছে, এমনটা ধরে নেবেন না। আগে নিজের আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানার চেষ্টা করুন।

আপনার কাছে যদি আবেদন করার সময় পাওয়া কোনও রসিদ বা আবেদন নম্বর থাকে, সেটি অবশ্যই সংরক্ষণ করে রাখুন। পরে অফিসে খোঁজ নিতে গেলে এই তথ্যই সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে।

দুই মাস হয়ে গেলেও টাকা নেই? এবার খোঁজ নিন

দুই মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও যদি কোনও টাকা না আসে, তাহলে আর শুধু অপেক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করা ভালো।

গ্রামাঞ্চলে নিজের গ্রাম পঞ্চায়েত বা সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিসে গিয়ে আবেদনের বিষয়ে খোঁজ নিতে পারেন। শহরাঞ্চলে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

সেখানে গিয়ে জানতে চান আপনার আবেদনটি বর্তমানে কোন অবস্থায় রয়েছে। আবেদনটি যাচাই হচ্ছে, অনুমোদিত হয়েছে, কোনও তথ্যের জন্য আটকে আছে নাকি অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে—এগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।

আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্য একবার ভালো করে মিলিয়ে নিন

অনেক সময় সরকারি সুবিধার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই আবেদন করার সময় দেওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি বর্তমানে চালু আছে কি না, সেটি আগে নিশ্চিত করুন।

ব্যাঙ্কে গিয়ে KYC আপডেট আছে কি না, অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং সরকারি DBT পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা আছে কি না—জেনে নিতে পারেন।

আধার সংক্রান্ত তথ্যেও কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করে নেওয়া ভালো।

তবে শুধু আধার লিঙ্ক নেই বলেই প্রত্যেক ক্ষেত্রে টাকা আটকে যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার নির্দিষ্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কারণে পেমেন্ট আটকে রয়েছে, সেটাই আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার।

আধার, ব্যাঙ্ক আর আবেদনের নাম এক আছে তো?

এখানেও অনেক সময় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

পড়তে পারেন: কৃষক বন্ধু নাকি পিএম কিষান? কি বলছে কৃষি দপ্তর? জানুন বিস্তারিত – WB Krishak Bandhu Prakalpo

ধরুন, আবেদনে আপনার নাম একভাবে লেখা রয়েছে, কিন্তু ব্যাঙ্কের নথিতে নামের বানান অন্যরকম। অথবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা IFSC-তে কোনও ভুল রয়েছে। এমন তথ্যের অসঙ্গতি থাকলে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সমস্যা হতে পারে।

তাই নিজের কাছে থাকা নথিগুলো মিলিয়ে দেখুন—

  1. আধার কার্ডে নাম
  2. ব্যাঙ্কের পাসবুকে নাম
  3. আবেদনপত্রে দেওয়া নাম
  4. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর
  5. IFSC
  6. মোবাইল নম্বর
  7. আবেদন বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর

কোনও ভুল চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিন।

তিন মাস বা তার বেশি সময় ধরে টাকা না এলে কী করবেন?

তিন মাস বা তারও বেশি সময় ধরে আবেদন করার পর কোনও অগ্রগতি না হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত।

প্রথমে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত, ব্লক অফিস, পুরসভা বা প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত দফতরে লিখিতভাবে সমস্যাটি জানাতে পারেন। মৌখিকভাবে অভিযোগ করার পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ জমা দিলে তার একটি গ্রহণপত্র বা প্রাপ্তিস্বীকার নিজের কাছে রাখুন।

অভিযোগে পরিষ্কারভাবে লিখবেন—

আপনার নাম, আবেদন নম্বর, আবেদনের তারিখ, যোগাযোগের নম্বর এবং কী সমস্যা হচ্ছে।

ব্যাঙ্কের তথ্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে তথ্য চাইছে, সেই অনুযায়ী নথি জমা দিন। তবে কোনও জায়গায় প্রয়োজন না থাকলে অযথা আধার নম্বর বা ব্যাঙ্কের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করবেন না।

টাকা অনুমোদিত হয়েছে, কিন্তু অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি?

এটি আলাদা ধরনের সমস্যা।

যদি অফিস থেকে জানা যায় যে আপনার আবেদন অনুমোদিত হয়েছে এবং পেমেন্টও প্রসেস করা হয়েছে, কিন্তু অ্যাকাউন্টে টাকা দেখা যাচ্ছে না, তাহলে আগে ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করুন।

ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে চান কোনও সরকারি DBT ক্রেডিট আটকে আছে কি না। পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রয়েছে কি না এবং KYC বা অন্য কোনও ব্যাঙ্কিং সমস্যার কারণে টাকা ফেরত গেছে কি না, সেটিও জেনে নিন।

প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক থেকে সমস্যার বিষয়ে তথ্য নিয়ে আবার সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে যোগাযোগ করুন।

টাকা দেরি হলেই কি আগের সব টাকা একসঙ্গে পাওয়া যাবে?

এই জায়গায় অনেকেই ভুল ধারণার মধ্যে থাকেন।

এক বা দুই মাস টাকা না আসার পর পরে একসঙ্গে কয়েক মাসের টাকা পাওয়া নিশ্চিত, এমন কথা বলা যায় না। বকেয়া বা একসঙ্গে টাকা দেওয়া হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম, আপনার অনুমোদনের তারিখ এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করতে পারে।

তাই কেউ যদি বলে, “ব্যাঙ্কে DBT চালু করলেই আগের সব টাকা নিশ্চিতভাবে একসঙ্গে চলে আসবে”, তাহলে সেটি যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না।

অন্নপূর্ণা যোজনার স্ট্যাটাস কীভাবে জানবেন?

আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা জানতে প্রথমে সেই সরকারি মাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবহার করুন, যেখান থেকে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।

আবেদন নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকলে সেটি সঙ্গে রাখুন। অনেক ক্ষেত্রেই এই নম্বর দিয়েই কর্মীরা আবেদনটি খুঁজে দেখতে পারেন।

স্ট্যাটাসে যদি কোনও ত্রুটি, অসম্পূর্ণ তথ্য বা নথির সমস্যা দেখানো হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তা সংশোধন করুন।

কোনও অচেনা ওয়েবসাইটে গিয়ে আধার নম্বর, OTP, ATM PIN বা ব্যাঙ্কের গোপন তথ্য দেবেন না।

হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার আগে যা প্রস্তুত রাখবেন

হেল্পলাইনে ফোন করার আগে কয়েকটি তথ্য কাছে রাখলে কথা বলতে সুবিধা হবে।

আবেদন নম্বর, আবেদন করার তারিখ, আবেদনকারীর নাম, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় ব্যাঙ্কের তথ্য হাতের কাছে রাখুন।

কর্মকর্তা যদি কোনও অভিযোগ নম্বর দেন, সেটি লিখে রাখুন। ভবিষ্যতে একই সমস্যার বিষয়ে আবার যোগাযোগ করার সময় ওই নম্বর কাজে লাগতে পারে।

আরও পড়ুন: Daily Income : দৈনিক আয় ৩০০ টাকা। রাজ্য সরকারের এই কার্ড আছে কী? কীভাবে আবেদন? দেখুন

সবচেয়ে আগে এই ৭টি বিষয় যাচাই করুন

অন্নপূর্ণার টাকা না এলে একে একে এই বিষয়গুলো পরীক্ষা করুন—

  • আবেদনটি আদৌ গ্রহণ করা হয়েছে কি না, যাচাই করে দেখে নিবেন।
  • আবেদন নম্বর বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঠিক আছে কি না, জেনে নিবেন।
  • আবেদনটি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে কি না।
  • কোনও নথি বা তথ্যের ত্রুটি দেখানো হয়েছে কি না।
  • ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় রয়েছে কি না।
  • KYC বা DBT সংক্রান্ত কোনও সমস্যা আছে কি না।
  • অনুমোদনের পর পেমেন্ট সত্যিই পাঠানো হয়েছে কি না।

এই সাতটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গেলে সমস্যাটা কোথায় আটকে আছে, তা অনেকটাই বোঝা যায়।

প্রতারণা থেকে সাবধান থাকুন

সরকারি প্রকল্পের টাকা আটকে থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতারকেরা অনেক সময় ফোন করে টাকা চাইতে পারে। কেউ যদি বলে, “টাকা ছাড়াতে OTP দিন”, “অ্যাকাউন্ট চালু করতে PIN দিন” বা “আগে টাকা পাঠান, তারপর সরকারি টাকা পাবেন”—তাহলে সতর্ক থাকুন।

OTP, ATM PIN, UPI PIN, CVV বা ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না।

সরকারি প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে কেউ ফোন করলেই তাকে সরকারি কর্মী ধরে নেবেন না। প্রয়োজনে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারি অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করুন।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা এক, দুই বা তিন মাসে না এলেই যে আপনার আবেদন বাতিল হয়ে গেছে, এমনটা ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আবার শুধু অপেক্ষা করলেই সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।

আপনার প্রথম কাজ হবে আগে স্ট্যাটাস চেক করা। এরপর কোন পর্যায়ে রয়েছে তা যাচাই করা। নিকটবর্তী অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা। তবে অনেক ক্ষেত্রে Revert হয়ে পঞ্চাশেত বা পৌরসভায় থেকে যেতে পারে।