WBBPE TET 2026: রাজ্যে ২০২৬ সালে টেট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে বড় আপডেট এসেছে। সরকারি তরফে সবুজ সঙ্কেত মিললেই আগামী তিন মাসের মধ্যে টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট বা TET আয়োজন করতে প্রস্তুত পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE)।
সম্প্রতি স্কুলশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) কাছে TET আয়োজনের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি আছে। WBBPE TET 2026
তিন মাসের মধ্যেই হতে পারে TET
সূত্রের মারফত খবর, স্কুলশিক্ষা দফতরের কাছে ইতিমধ্যেই পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান উল্লেখ করেছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন বা সবুজ সঙ্কেত পাওয়া গেলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব বলে পর্ষদের তরফে জানানো হয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত নতুন TET পরীক্ষার নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা হয়নি। এর ফলে পরীক্ষার্থীদের এখনই কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ধরে প্রস্তুতি না নিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।
কেন ফের TET নিয়ে এত আলোচনা?
প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত বহু শিক্ষককে TET-এর আওতায় আনার বিষয়টি নিয়েই এদিকে আলোচনা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট ২০২৫ সালের একটি রায়ে ইন-সার্ভিস (In Service) শিক্ষকদের TET যোগ্যতা নিয়ে নির্দেশ দেয়। এই রায়ে বলা হয়েছিল, অবসরের পাঁচ বছরের বেশি সময় বাকি থাকা নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মরত শিক্ষকদের TET পরীক্ষায় পাশ করতে হবে।
আদালতের নির্দেশে প্রাক-RTE সময়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও TET পাশের বিষয়টি উঠে আসে। তবে যাঁদের অবসরের পাঁচ বছর বা তার কম সময় বাকি রয়েছে , তাঁদের ক্ষেত্রে আদালত আলাদা ছাড়ের কথাও জানিয়েছিল।
২০২৮ সালের সময়সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এর আগে TET পাশ করার জন্য ২০২৭ সালের সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই সময়সীমা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে খবর রয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর TET আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBSSC) কাছে তথ্য চেয়েছে।
কারা TET নিয়ে বেশি সক্রিয় থাকবেন?
এই পরীক্ষা বিশেষ করে তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা TET যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত আদালতের নির্দেশের আওতায় রয়েছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরে কর্মরত TET-উত্তীর্ণ নয় এমন শিক্ষকদের জন্য। এর পাশাপাশি নতুন করে TET পরীক্ষায় অংশ নিতে চান এমন যোগ্য প্রার্থীরাও পর্ষদের বিজ্ঞপ্তির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
তবে এই পরীক্ষায় কারা আবেদন করতে পারবেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা কী লাগবে এবং পরীক্ষার ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে—এসব এখনও জানা যায়নি।
২০১১ সালের আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে প্রশ্ন
TET নিয়ে বিতর্কের অন্যতম বিষয় হল ২০১১ সালের আগে শিক্ষকতায় যোগ দেওয়া কর্মরত শিক্ষকগন যারা টেট পাশ করেননি। শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, শিক্ষার অধিকার আইন বা RTE কার্যকর হওয়ার পর শিক্ষকতার যোগ্যতার ক্ষেত্রে TET বাধ্যতামূলক করা হয়। তাঁদের দাবি, সেই নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে তা স্পষ্ট হওয়া জানানো দরকার।
রাজ্যে কতজন শিক্ষক TET নিয়ে সমস্যায়?
এদিকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে TET উত্তীর্ণ নন এমন কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষের মতো। পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি বলে জানা যায়। তবে এই সংখ্যার মধ্যে ঠিক কতজন কোন বিভাগের শিক্ষক এবং কার ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ সরাসরি প্রযোজ্য করতে হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের সময় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির নোটিশ এর উপর ।
কবে হবে পরীক্ষা?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, TET-এর নির্দিষ্ট তারিখ কবে ঘোষণা হতে পারে। পর্ষদের তরফে তিন মাসের মধ্যে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি থাকার কথা জানানো হলেও, সরকারি অনুমোদন ছাড়া পরীক্ষার দিন চূড়ান্ত ঘোষণা করা হবে না।
তবে স্কুলশিক্ষা দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর প্রাথমিক পর্ষদ প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে পারে। এরপরই পরীক্ষার তারিখ, আবেদন সংক্রান্ত নিয়মকানুন, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিষয় পরিষ্কার হবে।
আপাতত টেট পরীক্ষার্থী নতুন কিংবা কর্মরত শিক্ষকগন অপেক্ষা করুন। পর্ষদ (WBBPE) কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি আসলে সব বিষয় পরিস্কার হবে।

Bongosathi Career Team মূলতঃ ছাত্র-ছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য কাজ করে। আমাদের এই টিমের সদস্যরা শিক্ষাক্ষেত্রে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আপডেট, ব্যাঙ্কিং সেক্টর বা সরকারি চাকরির খবর, এবং অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসার আইডিয়াগুলো আমরা বিশ্লেষণ করে এখানে তুলে ধরি। আমাদের লক্ষ্য হল পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজকে সঠিক তথ্য দিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সাহায্য করা।




