রাজ্যের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা নিয়ে বড় আপডেট সামনে এসে গেছে। ১ অগাস্ট থেকে রাজ্য জুড়ে পিঙ্ক কার্ড (Pink Card) চালু হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে গেলে যাত্রীদের পিঙ্ক কার্ড দেখাতে হতে পারে।এর ফলে যাঁদের এখনও এই কার্ড তৈরি হয়নি, তাঁদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কীভাবে আবেদন করবেন? অনলাইনে করা যাবে, নাকি অফলাইনে? কী কী ডকুমেন্টস লাগবে? এই প্রতিবেদনে রইল সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একসঙ্গে।

পিঙ্ক কার্ড আসলে কী?

মহিলাদের সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধাকে আরও সুসংগঠিত করতে চালু করা হয়েছে পিঙ্ক কার্ড। এতদিন পর্যন্ত বাসে উঠে আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখিয়েই অনেক ক্ষেত্রে এই সুবিধা পেতেন মহিলারা। তবে ১ অগাস্ট থেকে নিয়মে পরিবর্তন এসেছে বলে জানা যায়।

এখন থেকে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে চাইলে পিঙ্ক কার্ড দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে বলে খবর। তাই যাঁরা এখনও পর্যন্ত আবেদন করেননি, তাঁদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য জুড়ে কেন চালু করা হল এই কার্ড?

সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের পরিচয় যাচাই এবং পরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে পিঙ্ক কার্ড ব্যবস্থার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাই আরও সহজ হবে বলে জানা যাচ্ছে।

অনলাইনে কীভাবে আবেদন করতে হবে?

এবার বাড়িতে বসেই অনলাইনে পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে। এর জন্য কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথমে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে হবে। সেখানে পিঙ্ক কার্ড সংক্রান্ত অপশন ক্লিক করতে হবে। এরপর নিজের নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

এর রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করতে হবে। তারপর আধার কার্ড, ভোটার কার্ডসহ প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করতে হবে। সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর আবেদনটি পত্রটি সাবমিট করতে হবে।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে থাকবে।  যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে পিঙ্ক কার্ড পাওয়া যাবে।

অফলাইনেও করা যাবে আবেদন, কীভাবে?

যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন না, তাঁদের জন্য অফলাইন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জানা যায় গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বিডিও অফিসে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে, শহর বা পুরসভা এলাকার বাসিন্দাদের সংশ্লিষ্ট পৌরসভায় গিয়ে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করার সুবিধা দেওয়া হবে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই করে থাকবে। সমস্ত কিছু ঠিক থাকলে আবেদনকারীকে পিঙ্ক কার্ড প্রদান করা হবে।

আবেদন করতে গেলে কী কী নথি লাগবে?

পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি থাকতে হবে।

  1. আধার কার্ড
  2. ভোটার কার্ড
  3. সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  4. সচল মোবাইল নম্বর

তবে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে সমস্ত নথি সঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা হলে পুরো প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যায়।

পিঙ্ক কার্ড না থাকলে কি ফ্রি বাস পরিষেবা বন্ধ?

এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বেশি সোস্যাল মিডিয়ায় উঠছে। তবে এই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও সরকারি ঘোষণা প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে ১ অগাস্ট থেকে পিঙ্ক কার্ড দেখিয়ে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের বিষয়টি সামনে আসায় অনেকেই দ্রুত আবেদন করার প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা এড়াতে এবং পরিষেবা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে যত দ্রুত সম্ভব পিঙ্ক কার্ড তৈরি করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

মনে রাখা ভালো পিঙ্ক কার্ড ছাড়া সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে কিনা—এমন কোনও নির্দিষ্ট সরকারি ঘোষণা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তাই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানতে সরকারের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখুন।

তবে যেহেতু পিঙ্ক কার্ড আবেদন চালু হয়েছে এবং আবেদন প্রক্রিয়াও ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, তাই প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রেখে দ্রুত আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

Source: https://bangla.aajtak.in/utility/story/how-to-apply-for-pink-card-free-bus-travel-from-august-1-sud-1432276-2026-08-01