রাজ্যে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্প নিয়ে ফের নয়া করে চর্চা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকার পর থেকে বহু উপভোক্তা বর্তমানে জানতে চাই , নতুন করে প্রথম কিস্তির ₹১,৫০০ কি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করেছে? এর পাশাপাশি যাঁরা এখনও এই প্রকল্পগুলির আওতায় আসতে পারেননি, তাঁদের মধ্যেও নতুন আবেদন কবে শুরু হবে কীভাবে এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে অনেকেরই।
এদিকে সরকারি সূত্রে জানা যায়, ১ অগাস্ট থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ভাতার অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে সুবিধাভোগীরা সহজে সরকারি আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
১ অগাস্ট থেকে ভাতার অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া
এই নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আগের মতো আলাদা করে কোনও দফতরে গিয়ে ভাতার অর্থ সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেলে সুবিধাভোগীদের সময় এবং হয়রানি—দুটোই কমবে বলে সরকারি সুত্রে জানা যাচ্ছে।
বিশেষকে যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও প্রয়োজনীয় তথ্য ইতিমধ্যেই সরকারি নথিতে সঠিকভাবে রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।
নতুন আবেদন করা যাবে কি?
যারা এই প্রকল্পগুলির আওতায় এখনও আসেননি, তাঁদের জন্য ভবিষ্যতে নতুন আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে বর্তমানে কোনো নতুন আবেদন প্রক্রিয়া চালু নেই।
সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক সময়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন গ্রহণ শুরু করা সম্পর্কে জানিয়ে দেবে। তাই নতুন আবেদন করতে আগ্রহীদের সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
কারা আবেদন করার যোগ্য?
এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র যোগ্য আবেদনকারীরাই এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পাবেন। আবেদনকারীর সমস্ত তথ্য ও নথি যাচাইয়ের পরই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।
যদি আবেদনপত্রে ভুল তথ্য থাকে অথবা প্রয়োজনীয় নথি অসম্পূর্ণ দেওয়া হয়, তাহলে আবেদন বাতিল হতে পারে বলে জানা যায়। তাই আবেদন করার আগে সমস্ত তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
আবেদন করতে কী কী নথি লাগবে?
নতুন আবেদন শুরু হলে সাধারণভাবে নিম্নলিখিত নথিগুলি প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা যায় —
- আধার কার্ড
- পরিচয়পত্র
- বয়সের প্রমাণপত্র
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
- প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরকারি নথি
আবেদন জমা দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দফতর অতিরিক্ত নথিও চাইতে পারে জানা যায় । তাই সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নির্দেশিকা ভালোভাবে পড়ে তারপর আবেদন করাই শ্রেয়।
কোথায় আবেদন করতে হবে?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত সরকারি দফতর অথবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হতে পারে তবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্ত তথ্য ভালো ভাবে যাচাই করবেন। এরপর যাচাই সফল হলে আবেদনকারীকে প্রকল্পের সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এখন কী করবেন?
যদি আপনি ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে।
আর যদি এখনও আবেদন না করে থাকেন , তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। বর্তমানে নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু না হলেও, সরকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে সেই সময় প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে আবেদন করা যেতে পারে।
