পড়ুয়ারা মাসে ৮,০০০ পর্যন্ত স্কলারশিপ পাবেন। কোন কোর্সে কত? কীভাবে আবেদন করবেন? রইল বিস্তারিত

এবার পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পর্বতের জন্য রাজ্য সরকার নতুন করে ঢেলে সাজালেও স্বামী বিবেকানন্দ মেরিটকাম স্কলারশিপ এর সুবিধা। কেননা এর আগে যেখানে এককালীন সুবিধা দেওয়া হতো এখন তা পরিবর্তন করে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে রাজ্যে এই স্কলারশিপের উপরেই বিশেষ জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্বামী বিবেকানন্দ মেরিটকাম স্কলারশিপ এর মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত পড়ুয়া অর্থাৎ একাদশ শ্রেণী থেকে উচ্চ বিভাগ পর্যন্ত যারা বিভিন্ন বিভাগে পড়াশোনাররত সহায়তা করা হবে। বিশেষকরে যারা আর্থিক বাধার কারনে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সমস্যায় পড়তেন তাদের জন্যই মূলত এই প্রকল্প আনা হয়েছে।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা গবেষণা স্তর পর্যন্ত এই সহায়তা পাওয়া যাবে। তবে কিছু শর্ত আছে যা পূরণ করতে হবে।

  • প্রার্থীকে পরীক্ষায় পাস করতে হবে ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ বা ২০২৫ সালে। নম্বরের ক্ষেত্রে —
  1. উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতক স্তরের জন্য শেষ পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর লাগবে।
  2. স্নাতকোত্তর স্তরে সাধারণ বিষয়ে ৫৩ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বা প্রযুক্তিতে ৫৫ শতাংশ লাগবে।
  3. কান্যাশ্রী (K3) প্রার্থীদের জন্য স্নাতকে ৪৫ শতাংশ হলেই আবেদন করা যাবে।
  • পরিবারের বার্ষিক ২.৫ লাখ টাকার বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। তবে বোর্ড টপার, কান্যাশ্রী এবং M.Phil বা PhD প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই পারিবারিক আয়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

কোন কোর্সে কত টাকা অনুদান?

কোর্সের নামবিষয়মাসিক বৃত্তি
উচ্চমাধ্যমিক (HS)সব বিষয়১,০০০ টাকা
স্নাতক (UG)কলা ও বাণিজ্য১,০০০ টাকা
স্নাতক (UG)বিজ্ঞান ও পেশাদার কোর্স১,৫০০ টাকা
স্নাতকোত্তর (PG)কলা ও বাণিজ্য২,০০০ টাকা
স্নাতকোত্তর (PG)বিজ্ঞান ও পেশাদার কোর্স২,৫০০ টাকা
ইঞ্জিনিয়ারিং (UG ও PG)সব শাখা৫,০০০ টাকা
মেডিকেল (UG)ডিগ্রি কোর্স৫,০০০ টাকা
মেডিকেল (UG)ডিপ্লোমা কোর্স১,৫০০ টাকা
পলিটেকনিক ডিপ্লোমাসব শাখা১,৫০০ টাকা
D.El.Ed১,০০০ টাকা
Non-NET M.Phil৫,০০০ টাকা
Non-NET PhD৮,০০০ টাকা

মেধা যাচাই কীভাবে হয়?

  1. উচ্চমাধ্যমিক স্তরে মাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়ে থাকে।
  2. স্নাতক স্তরে উচ্চমাধ্যমিকের নম্বর দেখা হয়ে থাকে।
  3. আর্টস, কমার্ষ ও সায়েন্স এর জন্য আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করা হয়।
  4. এছাড়াও স্নাতকোত্তরে অনার্সের নম্বরই একমাত্র মাপকাঠি।

তবে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার — এই আর্থিক সাহায্য পেলে কেন্দ্র বা রাজ্যের অন্য কোনো সরকারি স্কলারশিপ বা আর্থিক সাহায্য একই কোর্সের জন্য নিতে পারবেন না। তবে একবারের অনুদান বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ফি ছাড় এই নিয়মের মধ্যে পড়বে না।

আবেদন করবেন কীভাবে?

স্বামী বিবেকানন্দ স্কলারশিপের ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়াটা অনলাইনে হয়ে থাকল। অফলাইন আবেদন জমার কোনো ঝামেলা নেই। স্কলারশিপ পোর্টালে গিয়ে নিজের তথ্য দিয়ে আবেদন পূরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক কারণ টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে চলে আসে।

তবে আয়ের নথিতে কোনো মিথ্যা তথ্য দিলে শুধু সাহায্য বাতিল হবে না, আগে পাওয়া সব টাকা ফেরতও দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো সরকারি বৃত্তির জন্য আবেদনের সুযোগও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সততার সঙ্গে সমস্ত তথ্য দিতে হবে।

স্টেট ব্যাংকে ৭১৫০ জন নিচ্ছে। মাসিক ১৫,০০০ স্টাইপেন্ড – পশ্চিমবঙ্গেও সুযোগ

স্কলারশিপের Renew কীভাবে হবে?

এখানে আর্থিক সাহায্য একবার পেলেই শেষ না। প্রতি বছর নবীকরণ করতে হয়ে থাকে। Renew জন্য কিছু শর্ত আছে যা হল —

  • ভর্তির এক মাসের মধ্যে অনলাইনে renew এর জন্য আবেদন করতে হবে।
  • উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতক স্তরে প্রমোশন মূলক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে।
  • স্নাতকোত্তর স্তরে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকলেই চলবে।
  • তবে পরীক্ষায় প্রথমবারেই পাস করতে হবে, সাপ্লিমেন্টারিতে পাস করলে নবায়ন হবে না।

বেকার জন্য সুসংবাদ! ফ্রী আবেদন, হাজার হাজার শূন্যপদ, নয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া – সবমিলিয়ে দারুণ আপডেট

স্নাতক ডিগ্রি কোর্সের জন্য —
প্রথম renew সেমেস্টার ১ ও ২-এর মার্কশিট থাকতে হবে। দ্বিতীয় renew করতে সেমেস্টার ৩ ও ৪-এর মার্কশিট আপলোড করতে হবে।

MBBS-এর জন্য কিছুটা আলাদা নিয়ম আছে। প্রতিটি সংশ্লিষ্ট পেশাদার পরীক্ষার মার্কশিট জমা দিতে হয়ে থাকে।

বেকার যুবক যুবতীদের জন্য রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে অনেক দিক থেকেই পড়ুয়ারা সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। সব থেকে বড় বিষয় হলো পড়ুয়ারা বারবার উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবার আবেদন করলে সেই একই সুবিধা পেতে থাকবেন।

অফিসিয়াল ডিটেইলস চেক করুন 
অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চেক করুন 
WhatsApp Join জয়েন করুন