রাজ্যের স্কুলে গরমের ছুটি কবে? জল্পনার মাঝেই সামনে এল নতুন আপডেট।

যদিও এখনো গরম পুরোপুরি পড়েনি, কিন্তু আগাম সতর্কবার্তা ইতিমধ্যেই দিয়ে ফেলেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বর্তমানে ঝড়-বৃষ্টির জন্য তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হবে না—এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে আবহাওয়া দফতর থেকে। আর সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি (Summer Vacation) কবে শুরু হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। আসুন তাহলে জেনেনি সরকারি দফতর কী বলছে। 

প্রতি বছর কবে পড়ে গরমের ছুটি?

সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে মে মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই গরমের ছুটি শুরু হয়ে থাকে। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কথা মাথায় রেখে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যের সুরক্ষাই এখানে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

গত কয়েক বছর থেকে অনুমান করা যায়, মে মাসের শুরুতেই ছুটি ঘোষণা করার প্রবণতা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সেই ছুটির মেয়াদ বাড়ানো বা কমানো—দুটোই হতে পারে বলে রিপোর্ট।

অফিসিয়াল তালিকা কী বলছে?

West Bengal Board of Secondary Education-এর ছুটির তালিকা অনুযায়ী, মে মাসে গরমের জন্য নির্ধারিত ছুটি রয়েছে সীমিত সময়—মাত্র ৬ দিন বন্ধ থাকবে। আপাতত এই ছুটি ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলেই মনে করছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তাঁদের মতামত অনুযায়ী, রাজ্যে তাপমাত্রা যেভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাতে এত কম দিনের ছুটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

আবহাওয়া কী বলছে?

India Meteorological Department ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে, ঝড়-বৃষ্টির পরপরই তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে চলেছে। অনেক জেলায় তাপপ্রবাহের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

এক্ষেত্রে যদি কোনো জেলায় ‘অরেঞ্জ’ বা ‘রেড’ অ্যালার্ট জারি হয়, তাহলে সেই জেলাগুলিতে স্কুল বন্ধ রাখা বা সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। আগেও এমন নজির রয়েছে।

ছুটি এগিয়ে আনার বদলে কি সময় বদল?

গরমের ছুটি এগিয়ে আনার পাশাপাশি আরেকটি বিকল্প প্রস্তাবও সামনে এসেছে বলে রিপোর্ট। শিক্ষকদের একাংশ চাইছেন, ছুটি বাড়ানোর বদলে সকালে স্কুল শুরু করা হোক।

এর ফলে দুপুরের তীব্র গরম এড়িয়ে পড়াশোনা চালানো সম্ভব হবে, আবার দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ রাখার প্রয়োজনও পড়বে না। কারণ দীর্ঘ ছুটিতে পড়াশোনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যায়।

 শিক্ষা দফতরের অবস্থান কী?

এখনও পর্যন্ত রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

শিক্ষানুরাগী সংগঠনগুলিও এই বিষয়ে সক্রিয় হয়েছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক—সব স্তরে সকালে স্কুল চালুর দাবিতে ইতিমধ্যেই আবেদন জমা পড়েছে।

 কী হতে পারে আগামী দিনে?

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি জোরালো—

  •  তাপপ্রবাহ বাড়লে গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হতে পারে
  • অথবা ছুটির পরিবর্তে স্কুলের সময় সকালবেলায় সরিয়ে দেওয়া হতে পারে
  • চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের মূল্যায়নের ওপর।

 অভিভাবক ও পড়ুয়াদের জন্য কী বার্তা?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপডেটের দিকে নজর রাখা। স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা দফতরের তরফে কোনো নির্দেশিকা এলে তা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

গরম বাড়ার আগে থেকেই জল পান বৃদ্ধি, রোদ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিৎ — তাই এই বিষয়গুলোতেও সকলের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।