পুজোর আগেই বিরাট সুখবর! বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা বেড়ে হল ১৫০০ টাকা, জানুন আবেদনের পদ্ধতি
পুজোর আগে দারুন সুসংবাদ। রাজ্যজুড়ে ফের বয়স্ক, বিধবা এবং প্রতিবন্ধী ভাতায় আবেদন হতে চলেছে। দেখুন কী কী ডকুমেন্টস থাকতে হবে?

সামনেই পুজো, আর তার আগে রাজ্যবাসীর জন্য বিরাট ঘোষণা করলেন রাজ্য সরকার। রাজ্যের নতুন করে বিধবা, বার্ধক্য এবং প্রতিবন্ধী ভাতায় আবেদন নিতে চলেছে রাজ্য সরকার ।শুধু সেখানেই থেমে নেই রাজ্য সরকার, পাশাপাশি রাজ্য বাসের জন্য আরেকটি সুখবর জানিয়েছেন তিনি। আগে যেখানে এই সমস্ত ভাতায় ১০০০ টাকা পেতেন এবার থেকে তার সঙ্গে আরো ৫০০ টাকা অতিরিক্ত পেতে চলেছেন। অর্থাৎ সবমিলিয়ে ১৫০০ টাকা প্রতি মাসে। আজকের প্রতিবেদনে ধাপে ধাপে জানবো কিভাবে আবেদন করবেন –
১০০০ থেকে বেড়ে ১৫০০ টাকা
রাজ্যের পেনশন ভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর দিয়েছেন রাজ্য সরকার। আমরা সকলে জানি এতদিন বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী বা দিব্যাঙ্গ ভাতার উপভোক্তারা মাসে ১,০০০ টাকা করে পেতেন। এবার সেই অঙ্ক বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হ’য়েছে। এদিন নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই ঘোষণা করেছেন, এবং সেই দিন থেকেই ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় শুরু করে দেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৬১ লক্ষ ৫৭ হাজারেরও বেশি বৃদ্ধ, বিধবা এবং দিব্যাঙ্গ মানুষ সামাজিক সুরক্ষা মাধ্যমে ভাতা পেয়ে চলেছেন।
নতুন আবেদন করতে কারা যোগ্য
- আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের বাসিন্দা হতে হবে
- দারিদ্র্যসীমার নীচে (বিপিএল) থাকা পরিবারের সদস্য হতে হবে।
- প্রার্থীর বয়স হতে হবে ৬০ বছর বা তার বেশি (বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য)
আবেদনের জন্য কী কী ডকুমেন্টস থাকতে হবে
আবেদন করার পূর্বে বেশ কিছু জরুরি ডকুমেন্টস হাতে রাখতে হবে। নিচে তার তালিকা দেওয়া হল
- প্রার্থীর আধার কার্ড
- রেশন কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র
- প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেটের কপি (শুধু প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে )
- আয়কর সার্টিফিকেট
- স্বামীর মৃত্যু সার্টিফিকেট কপি (বিধবা ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
- ব্যাঙ্ক পাসবুক
- নমিনেশন ফর্ম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- পাসপোর্ট সাইজের রিসেন্ট ছবি
অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবেন
যাঁরা ঘরে বসেই আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে উমাং (UMANG) পোর্টাল। নিচের ধাপগুলো দেখেনিন —
- ধাপ ১: প্রথমে প্লে স্টোর থেকে উমাং অ্যাপ ডাউনলোড করুন, অথবা সরাসরি ওয়েবসাইটে (web.umang.gov.in) ভিজিট করতে হবে।
- ধাপ ২: এরপর মোবাইল নম্বর ও ওটিপি দিয়ে লগ ইন করতে হবে
- ধাপ ৩: লগ ইনের পর সার্চ করুন NSAP (National Social Assistance Programme)
- ধাপ ৪: এরপর “অনলাইনে আবেদন করুন” অপশনে ক্লিক করে আবেদন শুরু করতে হবে।
- ধাপ ৫: প্রার্থীর প্রাথমিক তথ্য পূরণ করতে হবে, পেনশন পাওয়ার পদ্ধতি বেছে নিতে হবে, প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করে “সাবমিট” করতে হবে।
যাঁদের কাছে অনলাইন সুবিধাজনক নয়, তাঁদের জন্য অফলাইন আবেদন পদ্ধতি
যদি আপনি অনলাইনে আবেদন করতে না পারেন বা কোন অসুবিধার সম্মুখীন হন তাহলে আপনার জন্য রয়েছে অফলাইন আবেদন পদ্ধতি।
- গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা বিডিও কার্যালয় অথবা সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতি কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে ফর্ম সংগ্রহ করে নিতে পারেন।
- ফর্ম যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র-সহ জমা দিতে হবে বিডিও অথবা পঞ্চায়েত সমিতি অফিসে গিয়ে
- এছাড়াও সরকার কর্তৃক যে তারিখে জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত করবেন সেখানে আবেদন ফরম জমা দিতে পারবেন।
তবে এক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে রাখা দরকার — নতুন করে ভাতা চালুর প্রক্রিয়া চলাকালীন আপাতত অনলাইন ও অফলাইন, দুই মাধ্যমেই নতুন আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। যাঁরা এখনও আবেদন করেননি বা তালিকাভুক্ত হতে পারেননি, তাঁদের জন্য দুশ্চিন্তার কিছু নেই — কারণ খুব শীঘ্রই ফের একবার রাজ্যে বসতে চলেছে জনকল্যাণ শিবির।
পুজোর পরে ফের বসছে জনকল্যাণ শিবির
প্রতি বছরের জুন জুলাই মাসে রাজ্যজুড়ে জনকল্যাণ শিবের অনুষ্ঠিত করা হয়। এবার ফের একবার রাজ্য সরকার নতুন করে জনকল্যাণ শিবির অনুষ্ঠিত করতে চলেছে, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ফের একবার প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড এলাকায় আয়োজিত হবে এই জনকল্যাণ শিবির। এবার শিবির চলবে দুই দিন ধরে। যাঁরা এখনও বার্ধক্য, বিধবা বা প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেননি, তাঁরা এই জনকল্যাণ শিবিরেই নতুন করে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি “আপনার সরকার আপনার পাশে” কর্মসূচিতেও সামাজিক প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পেয়ে যাবেন।
তবে সরকারি সূত্রে এটাও জানা গিয়েছে যে, আগের সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ভাতার ওয়েটিং লিস্ট পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে। বদলে জনকল্যাণ শিবিরে যাঁরা নাম নথিভুক্ত করেছেন, ভেরিফিকেশনের পর তাঁদেরই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নতুন উপভোক্তা হিসেবে নেওয়া হবে।



