Latest News

শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর! চাকরির অফার, পদোন্নতিতে জোর, বাংলায় ‘নিষ্ঠা’ প্রকল্প শুরু করছে সরকার – West Bengal Nishtha Project 2026

রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে এবার বড় বদলের হাওয়া। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্কুলশিক্ষকদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘নিষ্ঠা’ চালু করতে চলেছে। গত ৯ মে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একের পর এক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পও সেই ধারারই অংশ।

‘নিষ্ঠা’ মানে ‘ন্যাশনাল ইনিশিয়েটিভ ফর স্কুল হেডস অ্যান্ড টিচার্স হলিস্টিক অ্যাডভান্সমেন্ট’। বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করানোই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সম্পূর্ণ অনলাইনে ‘দীক্ষা’ পোর্টালের মাধ্যমে এই কোর্স করানো হবে। ইতিমধ্যে গত ২১ এপ্রিল থেকে নাম নথিভুক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে এবং আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।

প্রশিক্ষণটি তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে থাকবে আধুনিক শিক্ষণ বিজ্ঞান এবং বিষয়ভিত্তিক পাঠদানের কৌশল। তৃতীয় ও শেষ ধাপে শিক্ষকরা শিক্ষাক্ষেত্রের নতুন চিন্তাভাবনা ও বিষয়ের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা। শিক্ষা দফতরের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে রাজ্যে যেসব শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবে তেমন কোনো ফল দেয়নি। অধিকাংশ শিক্ষকেরই জাতীয় শিক্ষানীতি বা শিক্ষণের প্রকৃত ফলাফল নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই বলেও সমীক্ষায় উঠে এসেছে। দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগে বহু শিক্ষক প্রশিক্ষণে উপস্থিত থেকেও কার্যত কিছুই শিখতেন না, ক্লাসরুমে তার কোনো প্রভাবও পড়ত না। পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় এই প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব না দেওয়ায় এতদিন রাজ্যে ‘নিষ্ঠা’ বাস্তবায়িত হয়নি।

এই প্রশিক্ষণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্যারিয়ারে এর সম্ভাব্য প্রভাব। আপাতত বাধ্যতামূলক না হলেও, ভবিষ্যতে শিক্ষকদের পদোন্নতি ও বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণের শংসাপত্র বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ যাঁরা এখনই এই কোর্স করে রাখবেন, আগামী দিনে তাঁরা ক্যারিয়ারে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।

এখন প্রশ্ন হলো, কাগজে-কলমে প্রশিক্ষণ নেওয়া আর বাস্তব শ্রেণীকক্ষে তা প্রয়োগ করা — দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। নতুন সরকারের এই উদ্যোগ শিক্ষার মানে আদৌ দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারবে কিনা, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button